বাংলাদেশের কর্পোরেট অফিসে বস মানেই লিডার নয়। অনেক সময় বসের চেয়ারে বসে থাকা মানুষটাই পুরো টিমের জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। নিচের লক্ষণগুলো দেখলেই বুঝবেন আপনি একজন নোংরা বসের অধীনে কাজ করছেন।
১. সব সাফল্যের কৃতিত্ব নিজে নেয়, ব্যর্থতার দায় চাপায় টিমের উপর
বাংলাদেশের প্রাইভেট সেক্টরে একটি কমন চিত্র হলো টিম কাজ করে আর বস প্রেজেন্টেশন দেয়। প্রজেক্ট সফল হলে মিটিংয়ে শোনা যায় আমি ডিসিশন নিয়েছিলাম। আর প্রজেক্ট ফেল করলে শোনা যায় টিম ঠিকমতো কাজ করেনি। বাস্তবে বহু কর্মী এই কারণে ডিমোটিভেট হয়ে চাকরি ছেড়ে দেয়।
২. কাজের সময়ের কোনো সীমা মানে না
রিয়াল ফ্যাক্ট হলো বাংলাদেশে লেবার ল অনুযায়ী অফিস টাইম নির্দিষ্ট। কিন্তু নোংরা বস রাত দশটায় ফোন করে কাজ চায়, ছুটির দিনেও হোয়াটসঅ্যাপে টাস্ক পাঠায়। জরুরি না হয়েও কর্মীর ব্যক্তিগত সময় নষ্ট করাকে সে নিজের অধিকার মনে করে।
৩. ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করে কাজ করায়
ভালো বস অনুপ্রেরণা দেয়। নোংরা বস হুমকি দেয়। চাকরি থাকবে না, পারফরমেন্স খারাপ লিখে দেবো, ইনক্রিমেন্ট পাবে না এসব কথা দিয়ে কর্মীদের চুপ করিয়ে রাখে। বাস্তবে বাংলাদেশের বহু অফিসে এই ভয়ের সংস্কৃতি মানসিক স্বাস্থ্য নষ্ট করছে।
৪. ফেভারিটিজম করে এবং চাটুকারদের এগিয়ে দেয়
পারফরমেন্স নয়, কারা বেশি স্যার স্যার করে তারাই প্রোমোশন পায়। যারা কাজ করে কিন্তু চাটুকারি জানে না তারা পিছিয়ে পড়ে। এই বাস্তবতা বাংলাদেশের কর্পোরেট কালচারে ওপেন সিক্রেট।
৫. নিজে কিছু জানে না কিন্তু সব বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে
নোংরা বস মাইক্রো ম্যানেজ করে। সে কাজ জানে না, তবুও প্রতিটি ইমেইল, ডিজাইন, রিপোর্টে অযথা পরিবর্তন চাপিয়ে দেয়। এতে কাজের গতি কমে এবং কর্মীর দক্ষতা নষ্ট হয়।
৬. কর্মীদের অসম্মান করে কথা বলে
মিটিংয়ে অপমান, উচ্চস্বরে কথা বলা, সিনিয়র জুনিয়র ভুলে গিয়ে খোঁচা দেওয়া এইগুলো নোংরা বসের বড় পরিচয়। রিয়াল লাইফে দেখা যায় এই ধরনের বসের টিমে টার্নওভার রেট সবসময় বেশি।
৭. ভুল স্বীকার করার সাহস নেই
ভুল হলে ক্ষমা চাইতে পারে না। উল্টো পরিস্থিতি ঘুরিয়ে দেয়। বাংলাদেশি কর্পোরেট কালচারে অনেক বস ভুল মানে অপমান মনে করে। অথচ লিডারশিপ স্টাডিতে প্রমাণিত ভুল স্বীকার করাই ভালো নেতৃত্বের চিহ্ন।
৮. কর্মীদের উন্নয়নে আগ্রহ নেই
ট্রেনিং বাজেট নেই, স্কিল ডেভেলপমেন্টে সাপোর্ট নেই। কারণ সে ভয় পায় আপনি শিখে গেলে তাকে ছাড়িয়ে যাবেন। বাস্তবে এই মানসিকতা পুরো কোম্পানির গ্রোথ থামিয়ে দেয়।
৯. কাজের চাপ দিয়ে মানুষ ভাঙে, মানুষ গড়ে না
টার্গেট অবাস্তব, ডেডলাইন অমানবিক। কাজ শেষ না হলে দোষারোপ। এই চাপ দীর্ঘমেয়াদে কর্মীদের বার্নআউট করে তোলে। বাংলাদেশে কর্পোরেট স্ট্রেস বাড়ার অন্যতম কারণ এটাই।
১০. অফিসকে নিজের ব্যক্তিগত রাজ্য মনে করে
নিয়ম তার জন্য নয়, অন্যদের জন্য। সে দেরি করে আসে, আগে চলে যায়। কিন্তু কর্মী এক মিনিট দেরি করলেই সমস্যা। এই দ্বৈত নীতিই নোংরা বসের চূড়ান্ত পরিচয়।
১. সব সাফল্যের কৃতিত্ব নিজে নেয়, ব্যর্থতার দায় চাপায় টিমের উপর
বাংলাদেশের প্রাইভেট সেক্টরে একটি কমন চিত্র হলো টিম কাজ করে আর বস প্রেজেন্টেশন দেয়। প্রজেক্ট সফল হলে মিটিংয়ে শোনা যায় আমি ডিসিশন নিয়েছিলাম। আর প্রজেক্ট ফেল করলে শোনা যায় টিম ঠিকমতো কাজ করেনি। বাস্তবে বহু কর্মী এই কারণে ডিমোটিভেট হয়ে চাকরি ছেড়ে দেয়।
২. কাজের সময়ের কোনো সীমা মানে না
রিয়াল ফ্যাক্ট হলো বাংলাদেশে লেবার ল অনুযায়ী অফিস টাইম নির্দিষ্ট। কিন্তু নোংরা বস রাত দশটায় ফোন করে কাজ চায়, ছুটির দিনেও হোয়াটসঅ্যাপে টাস্ক পাঠায়। জরুরি না হয়েও কর্মীর ব্যক্তিগত সময় নষ্ট করাকে সে নিজের অধিকার মনে করে।
৩. ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করে কাজ করায়
ভালো বস অনুপ্রেরণা দেয়। নোংরা বস হুমকি দেয়। চাকরি থাকবে না, পারফরমেন্স খারাপ লিখে দেবো, ইনক্রিমেন্ট পাবে না এসব কথা দিয়ে কর্মীদের চুপ করিয়ে রাখে। বাস্তবে বাংলাদেশের বহু অফিসে এই ভয়ের সংস্কৃতি মানসিক স্বাস্থ্য নষ্ট করছে।
৪. ফেভারিটিজম করে এবং চাটুকারদের এগিয়ে দেয়
পারফরমেন্স নয়, কারা বেশি স্যার স্যার করে তারাই প্রোমোশন পায়। যারা কাজ করে কিন্তু চাটুকারি জানে না তারা পিছিয়ে পড়ে। এই বাস্তবতা বাংলাদেশের কর্পোরেট কালচারে ওপেন সিক্রেট।
৫. নিজে কিছু জানে না কিন্তু সব বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে
নোংরা বস মাইক্রো ম্যানেজ করে। সে কাজ জানে না, তবুও প্রতিটি ইমেইল, ডিজাইন, রিপোর্টে অযথা পরিবর্তন চাপিয়ে দেয়। এতে কাজের গতি কমে এবং কর্মীর দক্ষতা নষ্ট হয়।
৬. কর্মীদের অসম্মান করে কথা বলে
মিটিংয়ে অপমান, উচ্চস্বরে কথা বলা, সিনিয়র জুনিয়র ভুলে গিয়ে খোঁচা দেওয়া এইগুলো নোংরা বসের বড় পরিচয়। রিয়াল লাইফে দেখা যায় এই ধরনের বসের টিমে টার্নওভার রেট সবসময় বেশি।
৭. ভুল স্বীকার করার সাহস নেই
ভুল হলে ক্ষমা চাইতে পারে না। উল্টো পরিস্থিতি ঘুরিয়ে দেয়। বাংলাদেশি কর্পোরেট কালচারে অনেক বস ভুল মানে অপমান মনে করে। অথচ লিডারশিপ স্টাডিতে প্রমাণিত ভুল স্বীকার করাই ভালো নেতৃত্বের চিহ্ন।
৮. কর্মীদের উন্নয়নে আগ্রহ নেই
ট্রেনিং বাজেট নেই, স্কিল ডেভেলপমেন্টে সাপোর্ট নেই। কারণ সে ভয় পায় আপনি শিখে গেলে তাকে ছাড়িয়ে যাবেন। বাস্তবে এই মানসিকতা পুরো কোম্পানির গ্রোথ থামিয়ে দেয়।
৯. কাজের চাপ দিয়ে মানুষ ভাঙে, মানুষ গড়ে না
টার্গেট অবাস্তব, ডেডলাইন অমানবিক। কাজ শেষ না হলে দোষারোপ। এই চাপ দীর্ঘমেয়াদে কর্মীদের বার্নআউট করে তোলে। বাংলাদেশে কর্পোরেট স্ট্রেস বাড়ার অন্যতম কারণ এটাই।
১০. অফিসকে নিজের ব্যক্তিগত রাজ্য মনে করে
নিয়ম তার জন্য নয়, অন্যদের জন্য। সে দেরি করে আসে, আগে চলে যায়। কিন্তু কর্মী এক মিনিট দেরি করলেই সমস্যা। এই দ্বৈত নীতিই নোংরা বসের চূড়ান্ত পরিচয়।
বাংলাদেশের কর্পোরেট জগতে অযোগ্য ও বিষাক্ত নেতৃত্ব বা 'টক্সিক বস' চেনার প্রধান উপায়গুলো নিয়ে আলোচনা করে। একজন আদর্শ নেতার পরিবর্তে অনেক বস কীভাবে স্বৈরাচারী মনোভাব, অন্যায্য কাজের চাপ এবং চাটুকারিতাকে প্রাধান্য দেন তা এখানে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। লেখায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, এসব বসরা নিজেদের ভুল স্বীকার করেন না এবং ব্যক্তিগত ও পেশাদার জীবনের সীমারেখা লঙ্ঘন করে কর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করেন। মূলত কর্মক্ষেত্রে ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করা এবং কৃতিত্ব চুরি করার মতো নেতিবাচক আচরণগুলোই একজন অযোগ্য বসের মূল বৈশিষ্ট্য। এই ধরনের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করে এবং কর্মীদের মধ্যে চাকরি ছাড়ার প্রবণতা বাড়িয়ে দেয়। সামগ্রিকভাবে, এটি আমাদের দেশের অফিস সংস্কৃতির একটি অন্ধকার দিক ও অমানবিক কর্মপরিবেশের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে।

No comments:
Post a Comment