নীরবতার শিল্প - EDUCATION

Breaking

Around the World

Friday, February 20, 2026

নীরবতার শিল্প


মানুষের সাথে কথা বলা কমিয়ে দিন— এ কথা শুনতে হয়তো একটু কঠিন লাগে। কারণ মানুষ তো সামাজিক প্রাণী, সম্পর্ক আর কথোপকথনই তার বেঁচে থাকার রসদ। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সব কথা শান্তি আনে না; অনেক কথাই ক্লান্তি বাড়ায়, মনকে ভারী করে, অপ্রয়োজনীয় চিন্তার জাল বুনে দেয়।

জীবনের একটি পর্যায়ে এসে মানুষ বুঝতে শেখে— সবাইকে খুশি রাখতে গিয়ে নিজের ভেতরের শান্তিটাই হারিয়ে ফেলে। অকারণ বিতর্ক, অহেতুক তুলনা, অনর্থক সমালোচনা— এসব থেকে দূরে থাকলে মন ধীরে ধীরে হালকা হতে থাকে।
 
কম কথা মানে একাকিত্ব নয়; বরং নিজের সাথে সময় কাটানোর এক অনন্য সুযোগ। সেই নীরবতায় মানুষ নিজের অনুভূতি শুনতে পারে, নিজের ভু'ল বুঝতে পারে, নিজের শক্তি চিনতে পারে।

যত কম অপ্রয়োজনীয় কথায় জড়াবেন, তত কম ক'ষ্ট জমবে মনে। কারণ বেশিরভাগ আ'ঘা'ত আসে শব্দের মাধ্যমে— কারও অবহেলা, কারও তির্যক কথা, কারও ভু'ল বোঝা। দূরত্ব রাখলে এসবের প্রভাবও কমে যায়। তখন জীবন হয়ে ওঠে সহজ, প্রত্যাশা হয় কম, আর শান্তি থাকে বেশি।

তাই সবার সাথে নয়— যাদের সাথে কথা বললে মন ভালো থাকে, তাদের রাখুন কাছে। আর বাকিদের থেকে একটু দূরত্ব রাখুন নির্দ্বিধায়। দেখবেন, ভেতরের নীরবতাই একসময় সবচেয়ে বড় আশ্রয় হয়ে উঠেছে।



"The Art of Silent Peace" রচনার মূল বক্তব্য হলো অপ্রয়োজনীয় কথোপকথন কমিয়ে নিজের মানসিক প্রশান্তি রক্ষা করা। লেখক এখানে বুঝিয়েছেন যে সবার সাথে সুসম্পর্ক রাখতে গিয়ে আমরা প্রায়ই নিজের ভেতরের শান্তি হারিয়ে ফেলি, যা আমাদের মনকে ক্লান্ত করে তোলে। অনর্থক বিতর্ক ও সমালোচনা থেকে দূরে থাকলে মানুষ নিজের সাথে সময় কাটানোর এবং আত্মোপলব্ধির এক অনন্য সুযোগ পায়। বাহ্যিক কোলাহল কমিয়ে দিলে অন্যের দেওয়া আঘাত বা নেতিবাচক শব্দের প্রভাব আমাদের ওপর অনেক কম পড়ে। জীবনকে সহজ করতে কেবল তাদের সাথেই যোগাযোগ রাখা উচিত যারা মনে আনন্দ জোগায়, আর বাকিদের থেকে সচেতনভাবে দূরত্ব বজায় রাখা শ্রেয়। পরিশেষে, এই আভ্যন্তরীণ নীরবতাই মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় আশ্রয়ে পরিণত হয়। 

No comments:

Post a Comment