
ছোট্ট বেলার দিনগুলো ছিল কতই না মধুর! 🥰 শৈশবের সেই দুরন্তপনা, বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলা, মায়ের আদর, গ্রামের সবুজ প্রকৃতি আর মিষ্টি মিষ্টি স্মৃতিগুলো আজও হৃদয়ে দোলা দেয়। ❤️
“ছোট্ট বেলার কবিতা” আমাদের সেই সোনালি শৈশবের কথা মনে করিয়ে দেয়, যখন ছোট ছোট আনন্দেই ভরে উঠত মন। এই কবিতার মাধ্যমে ফিরে আসুক হারিয়ে যাওয়া শৈশবের মায়াময় মুহূর্তগুলো।
সবার শৈশবের স্মৃতিগুলো হোক চিরসবুজ ও ভালোবাসায় ভরা। 💖
#ছোট্টবেলারকবিতা #বাংলাকবিতা #শৈশবেরস্মৃতি #শিশুকবিতা #বাংলাআবৃত্তি #ছোটবেলারস্মৃতি #BanglaPoem #BengaliPoetry

বাণিজ্যেতে যাবো আমি – আশরাফ সিদ্দিকী
বাণিজ্যেতে যাবো
আমি
সিন্দাবাদের মতো
পাহাড়-সাগর-অরণ্য-মাঠ
ছাড়িয়ে
শত
শত।
মাগো
আমায়
দাও
সাজিয়ে
ময়ূরপঙ্খীখানা
মাগো
আমি
আজকে
তোমার
শুনবো
না
আর
মানা।
কোথায়
আছে
ঘুমতি
নদী
কোথায়
মায়াবন
?
কোথায়
আছে
সোনার
টিয়া
কোথায়
হীরামন
?
সোনার
আলোর
মুকুটপরা কোন্
পাহাড়ের পার
ঝিলিক্
মারে
ক্ষীর
সাগরে
গজমোতির হার
?
সে-সব দেশে যাবার
তরে
মন
যে
কেমন
করে
মাগো
আমার
ময়ূরপঙ্খী সাজাও
ত্বরা
ক’রে।
সে-সব দেশে যাবো
আমি
শুনবো
না
আর
মানা-
মাগো
আমায়
দাও
সাজিয়ে
ময়ূরপঙ্খীখানা।
শম্
শম্
শম্
হাওয়ার
বেগে
কাঁপবে
নায়ের
পাল
সিন্দাবাদের মতন
আমি
ধ’রবো ক’ষে
হাল।
সাতটি
হাজার
সবুজ
সেনার
সাতটি
হাজার
দাঁড়
ঝপ্
ঝপ্
ঝপ্
তালে
তালে
ফেলবে
বারে
বার।
শাঁই শাঁই
শাঁই
ময়ূরপঙ্খী ছুটবে
তীরের
মতো
অচিন্
পাথার
অচিন্
নদী
ছাড়িয়ে
শত
শত।
মাগো
আমায়
দাও
সাজিয়ে
ময়ূরপঙ্খীখানা
মাগো
আমি
আজকে
তোমার
শুনবো
না
আর
মানা।

আযান – কায়কোবাদ
কে
ওই শোনাল মোরে আযানের
ধ্বনি।
মর্মে মর্মে সেই সুর,
বাজিল কি সুমধুর
আকুল হইল প্রাণ, নাচিল
ধমনী।
কি মধুর আযানের ধ্বনি!
আমি তো পাগল হয়ে
সে মধুর তানে,
কি যে এক আকর্ষণে,
ছুটে যাই মুগ্ধমনে
কি নিশীথে, কি দিবসে মসজিদের
পানে।
হৃদয়ের তারে তারে, প্রাণের
শোণিত-ধারে,
কি যে এক ঢেউ
উঠে ভক্তির তুফানে-
কত সুধা আছে সেই
মধুর আযানে।
নদী ও পাখির গানে
তারই প্রতিধ্বনি।
ভ্রমরের গুণ-গানে সেই
সুর আসে কানে
কি এক আবেশে মুগ্ধ
নিখিল ধরণী।
ভূধরে, সাগরে জলে নির্ঝরণী
কলকলে,
আমি যেন শুনি সেই
আযানের ধ্বনি।
আহা যবে সেই সুর
সুমধুর স্বরে,
ভাসে দূরে সায়াহ্নের নিথর
অম্বরে,
প্রাণ করে আনচান, কি
মধুর সে আযান,
তারি প্রতিধ্বনি শুনি আত্মার ভিতরে।
নীরব নিঝুম ধরা, বিশ্বে
যেন সবই মরা,
এতটুকু শব্দ যবে নাহি
কোন স্থানে,
মুয়াযযিন উচ্চৈঃস্বরে দাঁড়ায়ে মিনার ‘পরে
কি সুধা ছড়িয়ে দেয়
উষার আযানে!
জাগাইতে মোহমুদ্ধ মানব সন্তানে।
আহা কি মধুর ওই
আযানের ধ্বনি।
মর্মে মর্মে সেই সুর
বাজিল কি সমধুর
আকুল হইল প্রাণ, নাচিল
ধমনী।

প্রভাতী – কাজী নজরুল ইসলাম
ভোর
হলো দোর খোলো
খুকুমণি ওঠ রে!
ঐ ডাকে যুঁই-শাখে
ফুল-খুকি ছোটরে!
রবি মামা দেয় হামা
গায়ে রাঙা জামা ঐ,
দারোয়ান গায় গান
শোন ঐ, রামা হৈ!’
ত্যাজি নীড় করে ভিড়
ওড়ে পাখি আকাশে
এন্তার গান তার
ভাসে ভোর বাতাসে।
চুলবুল বুলবুল
শিস্ দেয় পুষ্পে,
এইবার এইবার
খুকুমণি উঠবে!
খুলি হাল তুলি পাল
ঐ তরী চললো,
এইবার এইবার
খুকু চোখ খুললো।
আলসে নয় সে
ওঠে রোজ সকালে
রোজ তাই চাঁদা ভাই
টিপ দেয় কপালে।
উঠলো ছুটলো ওই
খোকা খুকি সব,
”উঠেছে আগে কে”
ঐ শোনো কলরব।
নাই রাত মুখ হাত
ধোও, খুকু জাগো রে!
জয়গানে ভগবানে
তুষি’ বর মাগো রে।

পারিব না – কালীপ্রসন্ন ঘোষ
পারিব
না এ কথাটি বলিও
না আর
কেন পারিবে না তাহা
ভাব এক বার,
পাঁচ জনে পারে যাহা,
তুমিও পারিবে তাহা,
পার কি না পার
কর যতন আবার
এক বারে না পারিলে
দেখ শত বার৷
পারিব না বলে মুখ
করিও না ভার,
ও কথাটি মুখে যেন
না শুনি তোমার,
অলস অবোধ যারা
কিছুই পারে না তারা,
তোমায় তো দেখি না
ক তাদের আকার
তবে কেন পারিব না
বল বার বার?
জলে না নামিলে কেহ
শিখে না সাঁতার
হাঁটিতে শিখে না কেহ
না খেয়ে আছাড়,
সাঁতার শিখিতে হলে
আগে তবে নাম জলে,
আছাড়ে করিয়া হেলা, হাঁট
বার বার
পারিব বলিয়া সুখে হও
আগুসার৷

আসমানী – জসীম উদ্দিন
আসমানীরে
দেখতে যদি তোমরা সবে
চাও,
রহিমদ্দির ছোট্ট বাড়ি রসুলপুরে
যাও।
বাড়ি তো নয় পাখির
বাসা ভেন্না পাতার ছানি,
একটুখানি বৃষ্টি হলেই গড়িয়ে
পড়ে পানি।
একটুখানি হাওয়া দিলেই ঘর
নড়বড় করে,
তারি তলে আসমানীরা থাকে
বছর ভরে।
পেটটি ভরে পায় না
খেতে, বুকের ক-খান
হাড়,
সাক্ষী দিছে অনাহারে কদিন
গেছে তার।
মিষ্টি তাহার মুখটি হতে
হাসির প্রদীপ-রাশি
থাপড়েতে নিবিয়ে দেছে দারুণ অভাব
আসি।
পরনে তার শতেক তালির
শতেক ছেঁড়া বাস,
সোনালি তার গা বরণের
করছে উপহাস।
ভোমর-কালো চোখ দুটিতে
নাই কৌতুক-হাসি,
সেখান দিয়ে গড়িয়ে পড়ে
অশ্রু রাশি রাশি।
বাঁশির মতো সুরটি গলায়
ক্ষয় হল তাই কেঁদে,
হয় নি সুযোগ লয়
যে সে-সুর গানের
সুরে বেঁধে।
আসমানীদের বাড়ির ধারে পদ্ম-পুকুর ভরে
ব্যাঙের ছানা শ্যাওলা-পানা
কিল্-বিল্-বিল করে।
ম্যালেরিয়ার মশক সেথা বিষ
গুলিছে জলে,
সেই জলেতে রান্না-খাওয়া
আসমানীদের চলে।
পেটটি তাহার দুলছে পিলেয়,
নিতুই যে জ্বর তার,
বৈদ্য ডেকে ওষুধ করে
পয়সা নাহি আর।

মামার বাড়ি – জসীম উদ্দিন
আয়
ছেলেরা আয় মেয়েরা,
ফুল তুলিতে যাই
ফুলের মালা গলায় দিয়ে
মামার বাড়ি যাই।
মামার বাড়ি পদ্মপুকুর
গলায় গলায় জল,
এপার হতে ওপার গিয়ে
নাচে ঢেউয়ের দল।
দিনে সেথায় ঘুমিয়ে থাকে
লাল শালুকের ফুল,
রাতের বেলা চাঁদের সনে
হেসে না পায় কূল।
আম-কাঁঠালের বনের ধারে
মামা-বাড়ির ঘর,
আকাশ হতে জোছনা-কুসুম
ঝরে মাথার ‘পর।
রাতের বেলা জোনাক জ্বলে
বাঁশ-বাগানের ছায়,
শিমুল গাছের শাখায় বসে
ভোরের পাখি গায়।
ঝড়ের দিনে মামার দেশে
আম কুড়াতে সুখ
পাকা জামের শাখায় উঠি
রঙিন করি মুখ।
কাঁদি-ভরা খেজুর গাছে
পাকা খেজুর দোলে
ছেলেমেয়ে, আয় ছুটে যাই
মামার দেশে চলে।

প্রতিদান – জসীম উদ্দিন
আমার
এ ঘর ভাঙিয়াছে যেবা
আমি
বাঁধি তার ঘর,
আপন করিতে কাঁদিয়া বেড়াই
যে মোরে করেছে পর।
যে মোরে করিল পথের
বিবাগী-
পথে পথে আমি ফিরি
তার লাগি,
দিঘল রজনী তার তরে
জাগি ঘুম যে হরেছে
মোর;
আমার এ ঘর ভাঙিয়াছে
যেবা আমি বাঁধি তার
ঘর।
আমার এ কূল ভাঙিয়াছে
যেবা আমি তার কূল
বাঁধি,
যে গেছে বুকে আঘাত
করিয়া তার লাগি আমি
কাঁদি।
যে মোরে দিয়েছে বিষে-ভরা বাণ,
আমি দেই তারে বুকভরা
গান,
কাঁটা পেয়ে তারে ফুল
করি দান সারাটি জনম-ভর,-
আপন করিতে কাঁদিয়া বেড়াই
যে মোরে করেছে পর।
মোর বুকে যেবা কবর
বেঁধেছে আমি তার বুক
ভরি
রঙিন ফুলের সোহাগ-জড়ানো
ফুল মালঞ্চ ধরি।
যে মুখে কহে সে
নিঠুরিয়া বাণী,
আমি লয়ে করে তারি
মুখখানি,
কত ঠাঁই হতে কত
কীযে আনি সাজাই নিরন্তর-
আপন করিতে কাঁদিয়া বেড়াই
যে মোরে করেছে পর।

কবর – জসীম উদ্দিন
এই
খানে
তোর
দাদির
কবর
ডালিম-গাছের তলে,
তিরিশ
বছর
ভিজায়ে রেখেছি
দুই
নয়নের
জলে।
এতটুকু
তারে
ঘরে
এনেছিনু সোনার
মতন
মুখ,
পুতুলের বিয়ে
ভেঙে
গেল
বলে
কেঁদে
ভাসাইত
বুক।
এখানে
ওখানে
ঘুরিয়া ফিরিতে
ভেবে
হইতাম
সারা,
সারা
বাড়ি
ভরি
এত
সোনা
মোর
ছড়াইয়া দিল
কারা!
সোনালি
ঊষার
সোনামুখ তার
আমার
নয়নে
ভরি
লাঙল
লইয়া
খেতে
ছুটিলাম গাঁয়ের ও-পথ ধরি।
যাইবার
কালে
ফিরে
ফিরে
তারে
দেখে
লইতাম
কত
এ
কথা
লইয়া
ভাবি-সাব মোরে তামাশা
করিত
শত।
এমনি
করিয়া
জানি
না
কখন
জীবনের
সাথে
মিশে
ছোট-খাট তার হাসি
ব্যথা
মাঝে
হারা
হয়ে
গেনু
দিশে।
বাপের
বাড়িতে যাইবার
কাল
কহিত
ধরিয়া
পা
আমারে
দেখিতে
যাইও
কিন্তু
উজান-তলীর গাঁ।
শাপলার
হাটে
তরমুজ
বেচি
পয়সা
করি
দেড়ী,
পুঁতির
মালার
একছড়া
নিতে
কখনও
হত
না
দেরি।
দেড়
পয়সার
তামাক
এবং
মাজন
লইয়া
গাঁটে,
সন্ধাবেলায় ছুটে
যাইতাম
শ্বশুরবাড়ির বাটে!
হেস
না
হেস
না
শোন
দাদু,
সেই
তামাক
মাজন
পেয়ে,
দাদি
যে
তোমার
কত
খুশি
হত
দেখিতিস যদি
চেয়ে!
নথ
নেড়ে
নেড়ে
কহিত
হাসিয়া, এতদিন
পরে
এলে,
পথ
পানে
চেয়ে
আমি
যে
হেথায়
কেঁদে
মরি
আঁখিজলে।
আমারে
ছাড়িয়া এত
ব্যথা
যার
কেমন
করিয়া
হায়,
কবর
দেশেতে
ঘুমায়ে রয়েছে
নিঝঝুম
নিরালায়!
হাত
জোড়
করে
দোয়া
মাঙ
দাদু,
আয়
খোদা!
দয়াময়,
আমার
দাদীর
তরেতে
যেন
গো
ভেস্ত
নসিব
হয়।
তারপর
এই
শূন্য
জীবনে
যত
কাটিয়াছি পাড়ি
যেখানে
যাহারে
জড়ায়ে ধরেছি
সেই
চলে
গেছে
ছাড়ি।
শত
কাফনের,
শত
কবরের
অঙ্ক
হৃদয়ে
আঁকি,
গণিয়া
গণিয়া
ভুল
করে
গণি
সারা
দিনরাত
জাগি।
এই
মোর
হাতে
কোদাল
ধরিয়া
কঠিন
মাটির
তলে,
গাড়িয়া দিয়াছি কত
সোনামুখ নাওয়ায়ে চোখের
জলে।
মাটিরে
আমি
যে
বড়
ভালবাসি, মাটিতে
মিশায়ে বুক,
আয়-আয় দাদু, গলাগলি
ধরি
কেঁদে
যদি
হয়
সুখ।
এইখানে
তোর
বাপজি
ঘুমায়,
এইখানে
তোর
মা,
কাঁদছিস তুই?
কী
করিব
দাদু!
পরাণ
যে
মানে
না।
সেই
ফালগুনে বাপ
তোর
এসে
কহিল
আমারে
ডাকি,
বা-জান, আমার শরীর
আজিকে
কী
যে
করে
থাকি
থাকি।
ঘরের
মেঝেতে
সপটি
বিছায়ে কহিলাম
বাছা
শোও,
সেই
শোওয়া
তার
শেষ
শোওয়া
হবে
তাহা
কী
জানিত
কেউ?
গোরের
কাফনে
সাজায়ে তাহারে
চলিলাম
যবে
বয়ে,
তুমি
যে
কহিলা
বা-জানরে মোর কোথা
যাও
দাদু
লয়ে?
তোমার
কথার
উত্তর
দিতে
কথা
থেমে
গেল
মুখে,
সারা
দুনিয়ার যত
ভাষা
আছে
কেঁদে
ফিরে
গেল
দুখে!
তোমার
বাপের
লাঙল-জোয়াল দুহাতে জঢ়ায়ে ধরি,
তোমার
মায়ে
যে
কতই
কাঁদিতে সারা
দিনমান
ভরি।
গাছের
পাতার
সেই
বেদনায় বুনো
পথে
যেতো
ঝরে,
ফালগুনী হাওয়া
কাঁদিয়া উঠিত
শুনো-মাঠখানি ভরে।
পথ
দিয়া
যেতে
গেঁয়ো
পথিকেরা মুছিয়া যাইত
চোখ,
চরণে
তাদের
কাঁদিয়া উঠিত
গাছের
পাতার
শোক।
আথালে
দুইটি
জোয়ান
বলদ
সারা
মাঠ
পানে
চাহি,
হাম্বা
রবেতে
বুক
ফাটাইত
নয়নের
জলে নাহি।
গলাটি
তাদের
জড়ায়ে ধরিয়া
কাঁদিত
তোমার
মা,
চোখের
জলের গহীন সায়রে ডুবায়ে সকল
গাঁ।
ঊদাসিনী সেই পল্লী-বালার নয়নের
জল বুঝি,
কবর
দেশের
আন্ধারে ঘরে
পথ
পেয়েছিল খুজি।
তাই
জীবনের
প্রথম
বেলায়
ডাকিয়া আনিল
সাঁঝ,
হায়
অভাগিনী আপনি
পরিল
মরণ-বিষের তাজ।
মরিবার
কালে
তোরে
কাছে
ডেকে
কহিল,
বাছারে
যাই,
বড়
ব্যথা
র’ল, দুনিয়াতে তোর
মা
বলিতে
কেহ
নাই;
দুলাল
আমার,
যাদুরে
আমার,
লক্ষী
আমার
ওরে,
কত
ব্যথা
মোর
আমি
জানি
বাছা
ছাড়িয়া যাইতে
তোরে।
ফোঁটায় ফোঁটায় দুইটি
গন্ড
ভিজায়ে নয়নজলে,
কী
জানি
আশিস
করে
গেল
তোরে
মরণব্যথার ছলে।
ক্ষণপরে মোরে
ডাকিয়া কহিল
আমার
কবর
গায়
স্বামীর মাথার
মাথালখানিরে ঝুলাইয়া দিও
বায়।
সেই
যে
মাথাল
পচিয়া
গলিয়া
মিশেছে
মাটির
সনে,
পরাণের
ব্যথা
মরে
নাকো
সে
যে
কেঁদে
ওঠে
ক্ষণে
ক্ষণে।
জোড়মানিকেরা ঘুমায়ে রয়েছে
এইখানে
তরুছায়,
গাছের
শাখারা
স্নেহের মায়ায় লুটায়ে পড়েছে
গায়।
জোনকিমেয়েরা সারারাত জাগি জ্বালাইয়া দেয়
আলো,
ঝিঁঝিরা বাজায়
ঘুমের
নূপুর
কত
যেন
বেসে
ভালো।
হাত
জোড়
করে
দোয়া
মাঙ
দাদু,
রহমান
খোদা!
আয়;
ভেস্ত
নসিব
করিও
আজিকে
আমার
বাপ
ও
মায়!
এখানে
তোর
বুজির
কবর,
পরীর
মতন
মেয়ে,
বিয়ে
দিয়েছিনু কাজিদের বাড়ি
বনিয়াদি ঘর
পেয়ে।
এত
আদরের
বুজিরে
তাহারা
ভালবাসিত না
মোটে,
হাতেতে
যদিও
না
মারিত
তারে
শত
যে
মারিত
ঠোঁটে।
খবরের
পর
খবর
পাঠাত,
দাদু
যেন
কাল
এসে
দুদিনের তরে
নিয়ে
যায়
মোরে
বাপের
বাড়ির
দেশে।
শ্বশুর
তাহার
কশাই
চামার,
চাহে
কি
ছাড়িয়া দিতে
অনেক
কহিয়া
সেবার
তাহারে
আনিলাম
এক
শীতে।
সেই
সোনামুখ মলিন
হয়েছে
ফোটে
না
সেথায়
হাসি,
কালো
দুটি
চোখে
রহিয়া
রহিয়া
অশ্রু
উঠিছে
ভাসি।
বাপের
মায়ের
কবরে
বসিয়া
কাঁদিয়া কাটাত
দিন,
কে
জানিত
হায়,
তাহারও
পরাণে
বাজিবে
মরণবীণ!
কী
জানি
পচানো
জ্বরেতে ধরিল
আর
উঠিল
না
ফিরে,
এইখানে
তারে
কবর
দিয়েছি দেখে
যাও
দাদু!
ধীরে।
ব্যথাতুরা সেই
হতভাগিনীরে বাসে
নাই
কেহ
ভালো,
কবরে
তাহার
জড়ায়ে রয়েছে
বুনো
ঘাসগুলি কালো।
বনের
ঘুঘুরা
উহু
উহু
করি
কেঁদে
মরে
রাতদিন,
পাতায়
পাতায়
কেঁপে
উঠে
যেন
তারি
বেদনার
বীণ।
হাত
জোড়
করে
দোয়া
মাঙ
দাদু,
আয়
খোদা!
দয়াময়।
আমার
বুজীর তরেতে যেন
গো
ভেস্ত
নসিব
হয়।
হেথায়
ঘুমায়
তোর
ছোট
ফুপু,
সাত
বছরের
মেয়ে,
রামধনু
বুঝি
নেমে
এসেছিল
ভেস্তের দ্বার
বেয়ে।
ছোট
বয়সেই
মায়েরে হারায়ে কী
জানি
ভাবিত
সদা,
অতটুকু
বুকে
লুকাইয়াছিল কে
জানিত
কত
ব্যথা!
ফুলের
মতন
মুখখানি তার
দেখিতাম যবে
চেয়ে,
তোমার
দাদির
ছবিখানি মোর
হদয়ে
উঠিত
ছেয়ে।
বুকেতে
তাহারে
জড়ায়ে ধরিয়া
কেঁদে
হইতাম
সারা,
রঙিন
সাঁঝেরে ধুয়ে
মুছে
দিত
মোদের
চোখের
ধারা।
একদিন
গেনু
গজনার
হাটে
তাহারে
রাখিয়া ঘরে,
ফিরে
এসে
দেখি
সোনার
প্রতিমা লুটায়
পথের
পরে।
সেই
সোনামুখ গোলগাল
হাত
সকলি
তেমন
আছে।
কী
জানি
সাপের
দংশন
পেয়ে
মা
আমার
চলে
গেছে।
আপন
হস্তে
সোনার
প্রতিমা কবরে
দিলাম
গাড়ি,
দাদু!
ধরধর বুক ফেটে
যায়,
আর
বুঝি
নাহি
পারি।
এইখানে
এই
কবরের
পাশে
আরও
কাছে
আয়
দাদু,
কথা
কস
নাকো,
জাগিয়া উটিবে
ঘুমভোলা মোর যাদু।
আস্তে
আস্তে
খুঁড়ে
দেখ
দেখি
কঠিন
মাটির
তলে,
দীন
দুনিয়ার ভেস্ত
আমার
ঘুমায়
কিসের
ছলে
!
ওই
দূর
বনে
সন্ধ্যা নামিয়ে ঘন
আবিরের
রাগে,
অমনি
করিয়া
লুটায়ে পড়িতে
বড়
সাধ
আজ
জাগে।
মজিদ
হইতে
আযান
হাঁকিছে বড়
সুকরুণ
সুরে,
মোর
জীবনের
রোজকেয়ামত ভাবিতেছি কত
দূরে।
জোড়হাত দাদু
মোনাজাত কর,
আয়
খোদা!
রহমান।
ভেস্ত
নসিব
করিও
সকল
মৃত্যুব্যথিত প্রাণ।

কপোতাক্ষ নদ - মাইকেল মধুসূদন দত্ত
সতত,
হে নদ তুমি পড়
মোর মনে
সতত তোমার কথা ভাবি
এ বিরলে।
সতত যেমনি লোক নিশার
স্বপনে
শোনে মায়া যন্ত্র ধ্বনি
তব কলকলে
জুড়াই এ কান আমি
ভ্রান্তির ছলনে।
বহু দেশ দেখিয়াছি বহু
নদ দলে
কিন্তু এ স্নেহের তৃষ্ণা
মেটে কার জলে
দুগ্ধস্রোতরূপি তুমি মাতৃভূমি স্তনে।
আর কি হে হবে
দেখা যত দিন যাবে
প্রজারূপে রাজরূপ সাগরেরে দিতে
বারি রূপ কর তুমি
এ মিনতি গাবে
বঙ্গজ জনের কানে সখে-সখারিতে।
নাম তার এ প্রবাসে
মজি প্রেমভাবে
লইছে যে নাম তব
বঙ্গের সঙ্গীতে।

বঙ্গভাষা - মাইকেল মধুসূদন দত্ত
হে
বঙ্গ, ভাণ্ডারে তব বিবিধ রতন;
–
তা সবে, (অবোধ আমি!)
অবহেলা করি,
পর-ধন-লোভে মত্ত,
করিনু ভ্রমণ
পরদেশে, ভিক্ষাবৃত্তি কুক্ষণে আচরি।
কাটাইনু বহু দিন সুখ
পরিহরি।
অনিদ্রায়, নিরাহারে সঁপি কায়, মনঃ,
মজিনু বিফল তপে অবরেণ্যে
বরি; –
কেলিনু শৈবালে; ভুলি কমল-কানন!
স্বপ্নে তব কুললক্ষ্মী কয়ে
দিলা পরে –
“ওরে
বাছা, মাতৃকোষে রতনের রাজি,
এ ভিখারী-দশা তবে
কেন তোর আজি?
যা ফিরি, অজ্ঞান তুই,
যা রে ফিরি ঘরে!”
পালিলাম আজ্ঞা সুখে; পাইলাম
কালে
মাতৃ-ভাষা-রূপে খনি,
পূর্ণ মণিজালে।

আদর্শ ছেলে - কুসুম কুমারী দাশ
আমাদের
দেশে হবে সেই ছেলে
কবে
কথায় না বড় হয়ে
কাজে বড় হবে?
মুখে হাসি বুকে বল,
তেজে ভরা মন
‘মানুষ
হইতে হবে‘ – এই যার পণ৷
বিপদ আসিলে কাছে হও
আগুয়ান
নাই কি শরীরে তব
রক্ত, মাংস, প্রাণ?
হাত পা সবারই আছে,
মিছে কেন ভয়?
চেতনা রয়েছে যার, সে
কি পড়ে রয়?
সে ছেলে কে চায়
বল, কথায় কথায়
আসে যার চোখেজল, মাথা
ঘুরে যায়?
মনে প্রাণে খাট সবে,
শক্তি কর দান,
তোমরা ‘মানুষ’ হলে দেশের
কল্যাণ৷

তালগাছ – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
তালগাছ
এক পায়ে দাঁড়িয়ে
সব গাছ ছাড়িয়ে
উঁকি মারে আকাশে।
মনে সাধ, কালো মেঘ
ফুঁড়ে যায়,
একেবারে উড়ে যায়;
কোথা পাবে পাখা সে?
তাই তো সে ঠিক
তার মাথাতে
গোল গোল পাতাতে
ইচ্ছাটি মেলে তার, –
মনে মনে ভাবে, বুঝি
ডানা এই,
উড়ে যেতে মানা নেই
বাসাখানি ফেলে তার।
সারাদিন ঝরঝর থত্থর
কাঁপে পাতা-পত্তর,
ওড়ে যেন ভাবে ও,
মনে মনে আকাশেতে বেড়িয়ে
তারাদের এড়িয়ে
যেন কোথা যাবে ও।
তার পরে হাওয়া যেই
নেমে যায়,
পাতা কাঁপা থেমে যায়,
ফেরে তার মনটি
যেই ভাবে, মা যে
হয় মাটি তার
ভালো লাগে আরবার
পৃথিবীর কোণটি।

বীরপুরুষ – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
মনে করো, যেন বিদেশ
ঘুরে
মাকে নিয়ে যাচ্ছি অনেক
দূরে।
তুমি যাচ্ছ পালকিতে, মা,
চ’ড়ে
দরজা দুটো একটুকু ফাঁক
ক’রে,
আমি যাচ্ছি রাঙা ঘোড়ার
‘পরে
টগবগিয়ে তোমার পাশে পাশে।
রাস্তা থেকে ঘোড়ার খুরে
খুরে
রাঙা ধূলোয় মেঘ উড়িয়ে
আসে।
সন্ধ্যে হল, সূর্য নামে
পাটে,
এলেম যেন জোড়াদিঘির মাঠে।
ধূ ধূ করে যে
দিক-পানে চাই,
কোনোখানে জনমানব নাই,
তুমি যেন আপন-মনে
তাই
ভয় পেয়েছ-ভাবছ, ‘এলেম
কোথা।’
আমি বলছি, ‘ভয় কোরো
না মা গো,
ওই দেখা যায় মরা
নদীর সোঁতা।’
আমরা কোথায় যাচ্ছি কে
তা জানে-
অন্ধকারে দেখা যায় না
ভালো।
তুমি যেন বললে আমায়
ডেকে,
‘দিঘির ধারে ওই-যে
কিসের আলো!’
এমন সময় ‘হাঁরে রে
রে রে রে’
ওই – যে কারা আসতেছে
ডাক ছেড়ে!
তুমি ভয়ে পালকিতে এক
কোণে
ঠাকুর-দেবতা স্মরণ করছ
মনে,
বেয়ারাগুলো পাশের কাঁটাবনে
আমি যেন তোমায় বলছি
ডেকে,
‘আমি আছি, ভয় কেন,
মা, করো!’
তুমি বললে, ‘যাস নে
খোকা ওরে,’
আমি বলি, ‘দেখো-নাচুপ
করে।’
ছুটিয়ে ঘোড়া গেলেম তাদের
মাঝে,
কী ভয়ানক লড়াই হল
মা যে
শুনে তোমার গায়ে দেবে
কাঁটা।
কত লোক যে পালিয়ে
গেল ভয়ে,
কত লোকের মাথা পড়ল
কাটা।।
এত লোকের সঙ্গে লড়াই
ক’রে,
ভাবছ খোকা গেলই বুঝি
মরে।
আমি তখন রক্ত মেখে
ঘেমে
বলছি এসে, ‘লড়াই গেছে
থেমে,’
তুমি শুনে পালকি থেকে
নেমে
চুমো খেয়ে নিচ্ছ আমায়
কোলে
বলছ, ‘ভাগ্যে খোকা সঙ্গে
ছিল’
কী দুর্দশাই হত তা না
হলে!’

পালকির গান – সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
পালকি চলে!
পালকি চলে!
গগন তলে
আগুন জ্বলে!
স্তব্ধ গাঁয়ে
আদুল গায়ে
যাচ্ছে কারা
রৌদ্রে সারা!
ময়রা মুদি
চক্ষু মুদি,
পাটায় বসে
ঢুলছে কষে!
দুধের চাঁছি
শুষছে মাছি,-
উড়ছে কতক
ভনভনিয়ে।–
আসছে কারা
হনহনিয়ে?
হাটের শেষে
রুক্ষ বেশে
ঠিক দুপুরে
ধায় হাটুরে!
কুকুরগুলো
শুঁকছে ধুলো,-
ধঁকছে কেহ
ক্লান্ত দেহ।
গঙ্গা ফড়িং
লাফিয়ে চলে;
বাঁধের দিকে
সূর্য ঢলে।
পালকি চলে রে!
অঙ্গ ঢলে রে!
আর দেরি কত?
আরও কত দূর?
(সংক্ষেপিত)

বঙ্গবাণী – আবদুল হাকিম
কিতাব
পড়িতে যার নাহিক অভ্যাস।
সে সবে কহিল মোতে
মনে হাবিলাষ।।
তে কাজে নিবেদি বাংলা
করিয়া রচন।
নিজ পরিশ্রম তোষি আমি সর্বজন।।
আরবি ফারসি শাস্ত্রে নাই
কোন রাগ।
দেশী ভাষে বুঝিতে ললাটে
পুরে ভাগ।।
আরবি ফারসি হিন্দে নাই
দুই মত।
যদি বা লিখয়ে আল্লা
নবীর ছিফত।।
যেই দেশে যেই বাক্য
কহে নরগণ।
সেই বাক্য বুঝে প্রভু
আপে নিরঞ্জন।।
সর্ববাক্য বুঝে প্রভু কিবা
হিন্দুয়ানী।
বঙ্গদেশী বাক্য কিবা যত
ইতি বাণী।।
মারফত ভেদে যার নাহিক
গমন।
হিন্দুর অক্ষর হিংসে সে
সবের গণ।।
যে সবে বঙ্গেত জন্মি
হিংসে বঙ্গবাণী।
সে সব কাহার জন্ম
নির্ণয় ন জানি।।
দেশী ভাষা বিদ্যা যার
মনে না জুয়ায়।
নিজ দেশ তেয়াগী কেন
বিদেশ ন যায়।।
মাতা পিতামহ ক্রমে বঙ্গেত
বসতি।
দেশী ভাষা উপদেশ মনে
হিত অতি।।

পাছে লোকে কিছু বলে – কামিনী রায়
করিতে পারি না কাজ
সদা ভয় সদা লাজ
সংশয়ে সংকল্প সদা টলে –
পাছে লোকে কিছু বলে।
আড়ালে আড়ালে থাকি
নীরবে আপনা ঢাকি,
সম্মুখে চরণ নাহি চলে
পাছে লোকে কিছু বলে।
হৃদয়ে বুদবুদ মত
উঠে চিন্তা শুভ্র কত,
মিশে যায় হৃদয়ের তলে,
পাছে লোকে কিছু বলে।
কাঁদে প্রাণ যবে আঁখি
সযতনে শুকায়ে রাখি;-
নিরমল নয়নের জলে,
পাছে লোকে কিছু বলে।
একটি স্নেহের কথা
প্রশমিতে পারে ব্যথা –
চলে যাই উপেক্ষার ছলে,
পাছে লোকে কিছু বলে।
মহৎ উদ্দেশ্য যবে,
এক সাথে মিলে সবে,
পারি না মিলিতে সেই দলে,
পাছে লোকে কিছু বলে।
বিধাতা দেছেন প্রাণ
থাকি সদা ম্রিয়মাণ;
শক্তি মরে ভীতির কবলে,
পাছে লোকে কিছু বলে।

প্রার্থনা- গোলাম মোস্তফা
অনন্ত
অসীম
প্রেমময় তুমি
বিচার
দিনের
স্বামী।
যত
গুণগান
হে
চির
মহান
তোমারি
অন্তর্যামী।
দ্যুলোক-ভূলোক
সবারে
ছাড়িয়া
তোমারি
চরণে
পড়ি
লুটাইয়া
তোমারি
সকাশে
যাচি
হে
শকতি
তোমারি
করুণাকামী।
সরল
সঠিক
পূণ্য
পন্থা
মোদের
দাও
গো
বলি,
চালাও
সে-পথে যে-পথে
তোমার
প্রিয়জন গেছে
চলি।
যে-পথে তোমার চির-অভিশাপ
যে-পথে ভ্রান্তি, চির-পরিতাপ
হে
মহাচালক,মোদের
কখনও
করো
না
সে
পথগামী।
পাঞ্জেরি – ফররুখ আহমেদ
রাত
পোহাবার কত
দেরি
পাঞ্জেরি?
এখনো
তোমার
আসমান
ভরা
মেঘে?
সেতারা,
হেলার
এখনো
ওঠেনি
জেগে?
তুমি
মাস্তলে, আমি
দাঁড়
টানি
ভুলে;
অসীম
কুয়াশা জাগে
শূন্যতা ঘেরি।
রাত
পোহাবার কত
দেরি
পাঞ্জেরি?
দীঘল
রাতের
শ্রান্তসফর শেষে
কোন
দরিয়ার কালো
দিগন্তে আমরা
পড়েছি
এসে?
এ
কী
ঘন-সিয়া জিন্দেগানীর বা’ব
তোলে
মর্সিয়া ব্যথিত
দিলের
তুফান-শ্রান্ত খা’ব
অস্ফুট
হয়ে
ক্রমে
ডুবে
যায়
জীবনের
জয়ভেরী।
তুমি
মাস্তুলে, আমি
দাঁড়
টানি
ভুলে;
সম্মুখে শুধু
অসীম
কুয়াশা হেরি।
রাত
পোহাবার কত
দেরি
পাঞ্জেরি?
বন্দরে
বসে
যাত্রীরা দিন
গোনে,
বুঝি
মৌসুমী
হাওয়ায় মোদের
জাহাজের ধ্বনি
শোনে,
বুঝি
কুয়াশায়, জোছনা-
মায়ায় জাহাজের পাল
দেখে।
আহা,
পেরেশান মুসাফির দল।
দরিয়া
কিনারে
জাগে
তক্দিরে
নিরাশায় ছবি
এঁকে!
পথহারা
এই
দরিয়া-
সোঁতারা ঘুরে
চলেছি
কোথায়?
কোন
সীমাহীন দূরে?
তুমি
মাস্তুলে, আমি
দাঁড়
টানি
ভুলে;
একাকী
রাতের
গান
জুলমাত
হেরি!
ইসলামি বই খুঁজুন
রাত
পোহাবার কত
দেরি
পাঞ্জেরি?
শুধু
গাফলতে
শুধু
খেয়ালের ভুলে,
দরিয়া-
অথই
ভ্রান্তি- নিয়াছি ভুলে,
আমাদেরি ভুলে
পানির
কিনারে
মুসাফির দল
বসি
দেখেছে
সভয়ে
অস্ত
গিয়াছে তাদের
সেতারা,
শশী।
মোদের
খেলায়
ধুলায়
লুটায়ে পড়ি।
কেটেছে
তাদের
দুর্ভাগ্যের বিস্বাদ শর্বরী।
সওদাগরের দল
মাঝে
মোরা
ওঠায়েছি আহাজারি,
ঘরে
ঘরে
ওঠে
ক্রন্দনধ্বনি আওয়াজ
শুনছি
তারি।
ওকি
বাতাসের হাহাকার,- ও
কি
রোনাজারি ক্ষুধিতের!
ও
কি
দরিয়ার গর্জন,-
ও
কি
বেদনা
মজলুমের!
ও
কি
ধাতুর
পাঁজরায় বাজে
মৃত্যুর জয়ভেরী।
পাঞ্জেরি!
জাগো
বন্দরে
কৈফিয়তের তীব্র
ভ্রুকুটি হেরি,
জাগো
অগণন
ক্ষুধিত মুখের
নীরব
ভ্রুকুটি হেরি!
দেখ
চেয়ে
দেখ
সূর্য
ওঠার
কত
দেরি,
কত
দেরি!!
পাঞ্জেরি?
No comments:
Post a Comment