তেহরানের ১৬১ দিনের অদম্য লড়াই - EDUCATION

Breaking

Around the World

Tuesday, August 11, 2026

তেহরানের ১৬১ দিনের অদম্য লড়াই

 
তেহরানের শেষ প্রদীপ!! রাত তিনটা। তেহরানের আকাশে আজও সাইরেন বাজছে। ছাপ্পান্ন বছরের বৃদ্ধ আবু মাহদি জানালার পাশে বসে আছেন। তাঁর হাতে এক কাপ ঠান্ডা চা, চোখে একশো একষট্টি রাতের ক্লান্তি। হ্যাঁ, একশো একষট্টি দিন। পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী পরাশক্তির বিরুদ্ধে একটি জাতি একা দাঁড়িয়ে আছে একশো একষট্টি দিন ধরে।

ফেব্রুয়ারির সেই কালো রাতে যখন তাদের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যা করা হলো, যখন এক রাতে চল্লিশজন শীর্ষ কর্মকর্তা শহিদ হলেন, তখন গোটা পৃথিবী ভেবেছিল ইরান শেষ। সিএনএন বলেছিল সাত দিন। পেন্টাগন বলেছিল দুই সপ্তাহ। তেলআবিব উৎসবের প্রস্তুতি নিয়েছিল। অথচ আজ আগস্ট মাস। ইরান এখনও দাঁড়িয়ে।

আবু মাহদির ছোট ছেলে হোসাইন বন্দর আব্বাসে। হরমুজ প্রণালির পাহারায়। সেই প্রণালি, যেটা ইরান বন্ধ করে দিয়ে গোটা বিশ্বের তেলের বাজার কাঁপিয়ে দিয়েছে। ছেলেটা শেষ ফোনে বলেছিল, বাবা, আমরা জানি আমাদের কাছে ওদের মতো অস্ত্র নেই। কিন্তু ওদের কাছে আমাদের মতো কারণ নেই। ওরা লড়ছে তেলের জন্য, আমরা লড়ছি অস্তিত্বের জন্য।

আর আজ? আজ খবর এসেছে ওয়াশিংটনের গুদাম খালি হয়ে আসছে। থাড ফুরিয়েছে, প্যাট্রিয়ট ফুরিয়েছে। যে দেশ ভেবেছিল এক সপ্তাহে সব শেষ করে দেবে, সেই দেশের প্রেসিডেন্ট এখন নিজেই বলছেন, যুদ্ধটা শিগগিরই শেষ হওয়া দরকার। ইতিহাসের কী নির্মম পরিহাস। গোলিয়াথ ক্লান্ত, অথচ দাউদ এখনও পাথর হাতে দাঁড়িয়ে।

কিন্তু এই দাঁড়িয়ে থাকার মূল্য কে দিচ্ছে জানেন? আবু মাহদির স্ত্রী, যিনি ওষুধের অভাবে ধুঁকছেন, কারণ নিষেধাজ্ঞায় ইনসুলিন আসে না। দিচ্ছে ইসফাহানের সেই শিক্ষিকা, যিনি বিদ্যুৎহীন ক্লাসরুমে মোমবাতি জ্বালিয়ে বাচ্চাদের পড়াচ্ছেন। দিচ্ছে সেই মা, যিনি ছেলের কফিনের পাশে দাঁড়িয়ে কাঁদেননি, শুধু বলেছেন, আমার আরও দুটো ছেলে আছে।

মুদ্রার দাম পড়ে গেছে। রুটির লাইন লম্বা হচ্ছে। অর্থনীতি ভেঙে পড়ছে। তবু আশ্চর্যের বিষয়, এই জাতি ভিক্ষা চায়নি। কারও দরজায় গিয়ে মাথা নত করেনি। মুসকাটে আলোচনার টেবিলে বসেছে ঠিকই, কিন্তু মাথা উঁচু করে। পরাজিতের মতো নয়, সমানে সমান হয়ে।

আর আমরা? মুসলিম বিশ্বের সাতান্নটি দেশ? আমরা টেলিভিশনের পর্দায় দেখছি। বিবৃতি দিচ্ছি। উদ্বেগ প্রকাশ করছি। গাজা একা লড়েছে, ইরান একা লড়ছে, সুদান একা রক্তাক্ত হচ্ছে। উম্মাহর এই একাকীত্বই আমাদের সবচেয়ে বড় পরাজয়। শত্রুর ক্ষেপণাস্ত্র নয়, আপনজনের নীরবতাই সবচেয়ে বেশি পোড়ায়।

আবু মাহদি জানালা দিয়ে ভোরের আলো ফুটতে দেখলেন। মুয়াজ্জিনের কণ্ঠে ফজরের আজান ভেসে এলো। ধ্বংসস্তূপের ওপর দিয়েও আজান থামেনি, একশো একষট্টি দিনের একটি দিনও না। বৃদ্ধ জায়নামাজ বিছালেন। তাঁর চোখে পানি, কিন্তু ঠোঁটে একটাই বাক্য, হে আল্লাহ, তুমি তো দেখছ, আমরা একা। আর যে একা, তার সঙ্গেই তো তুমি থাকো।

ইতিহাস একদিন লিখবে, একবিংশ শতাব্দীতে একটি জাতি ছিল, যারা হারতে হারতেও হারেনি। কারণ যে জাতি মরতে ভয় পায় না, তাকে হারানোর কোনো অস্ত্র আজও আবিষ্কৃত হয়নি।

নওমুসলিম মুহাম্মদ রাজ

Disclaimer: This post is a humanitarian and literary reflection on an ongoing geopolitical situation, based on publicly reported international news. It does not promote violence, hatred, or any organization. It is intended solely to highlight human suffering and to promote peace, empathy, and awareness.

#Iran #ইরান #MiddleEast #মধ্যপ্রাচ্য #HumanityFirst #মানবতা #PrayForPeace #শান্তি #MuslimUmmah #উম্মাহ #Geopolitics #HCSB
 

 ইরানের অদম্য লড়াই এবং আত্মত্যাগের এক আবেগঘন চিত্র তুলে ধরে। দীর্ঘ একশো একষট্টি দিন ধরে শক্তিশালী শত্রুর বিরুদ্ধে একা দাঁড়িয়ে থেকে দেশটি কীভাবে তাদের অস্তিত্ব রক্ষা করছে, এখানে মূলত সেই সংগ্রামের কথাই বলা হয়েছে। সাধারণ মানুষের চরম ভোগান্তি এবং অর্থনৈতিক বিপর্যয় সত্ত্বেও জাতির অটল মনোবল এবং নৈতিক সাহসের বিষয়টি লেখক নিপুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। পাশাপাশি, মুসলিম বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোর নিস্পৃহতা ও নীরব ভূমিকা নিয়ে এখানে গভীর আক্ষেপ প্রকাশ করা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত এই বিবরণটি আমাদের জানায় যে, উন্নত মারণাস্ত্রের চেয়ে দেশপ্রেম এবং মৃত্যুকে জয় করার ইচ্ছা একটি জাতিকে অপরাজেয় করে তোলে। সামগ্রিকভাবে, এটি একটি জাতির একাকী লড়াই এবং হার না মানা মানসিকতার এক শৈল্পিক দলিল।
 

 

No comments:

Post a Comment

'; (function() { var dsq = document.createElement('script'); dsq.type = 'text/javascript'; dsq.async = true; dsq.src = '//' + disqus_shortname + '.disqus.com/embed.js'; (document.getElementsByTagName('head')[0] || document.getElementsByTagName('body')[0]).appendChild(dsq); })();