আইয়ামে বীজের গুরুত্ব ও নফল সাওমের ফজিলত - EDUCATION

Breaking

Around the World

Thursday, July 30, 2026

আইয়ামে বীজের গুরুত্ব ও নফল সাওমের ফজিলত

 
রমযানের ফরজ সাওম ছাড়াও সারা বছর অনেকগুলো নফল সাওম রয়েছে, যার মধ্যে 'আইয়ামে বীজ' অন্যতম। প্রতি হিজরি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখকে আইয়ামে বীজ বলা হয়। 'বীজ' শব্দের অর্থ শুভ্র বা সাদা। এই তিন দিন চাঁদ পূর্ণিমার কাছাকাছি থাকে এবং রাতগুলো অত্যন্ত জ্যোৎস্নাময় ও শুভ্র থাকে বলে একে আইয়ামে বীজ বলা হয়।

আইয়ামে বীজের সাওম পালন করা নফল, তবে এর ফজিলত অত্যন্ত ব্যাপক। মহানবী ﷺ সফর কিংবা বাড়িতে—সব অবস্থায় এই সাওমগুলো পালনের চেষ্টা করতেন। ফরজ ইবাদতের পাশাপাশি নফল ইবাদত আমাদের আমলনামার ঘাটতি পূরণ করে এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভে সাহায্য করে। প্রতি মাসে মাত্র ৩টি সাওম পালনের মাধ্যমে আমরা পুরো মাস, এমনকি সারা জীবন সাওম পালনের সওয়াব হাসিল করতে পারি। কারণ প্রতিটি নেক আমলের সওয়াব আল্লাহ ১০ গুণ বাড়িয়ে দেন (৩ x ১০ = ৩০ দিন)।

হাদীস ১
ইবনু মিলহান আল-ক্বায়সী (রহঃ) হতে তার পিতা থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন:
রাসূলুল্লাহ ﷺ আইয়ামে বীজ অর্থাৎ চাঁদের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে সাওম পালনে আমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন: এগুলো সারা বছর সাওম রাখার সমতুল্য।
আবু দাউদ ২৪৪৯

হাদীস ২
জারীর ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন:
প্রত্যেক মাসের তিন দিন সাওম পালন করা সারা বছর সাওম পালন করার সমতুল্য। আর আইয়ামে বীজ হলো—মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ।
নাসায়ী ২৪২০

হাদীস ৩
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন:
আমার বন্ধু ﷺ আমাকে তিনটি বিষয়ে অসিয়ত করেছেন: প্রতি মাসে তিন দিন করে সাওম পালন করা, চাশতের (দুহা) দুই রাকাত সালাত আদায় করা এবং ঘুমানোর পূর্বে বিতর সালাত আদায় করা।
বুখারী ১৯৮১

রমযানের তাকওয়া সারা বছর জারি রাখতে এবং নবীজি ﷺ-এর এই প্রিয় সুন্নাহটি পালন করতে আমরা প্রতি মাসে এই ৩টি সাওম পালনের সংকল্প করতে পারি। আল্লাহ আমাদের সবাইকে আইয়ামে বীজের সাওম পালনের তাওফিক দান করুন। আমীন।

 
আইয়ামে বীজের সাওম নির্দেশিকা
 প্রদত্ত উৎসগুলো হিজরি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে পালিত নফল ইবাদত 'আইয়ামে বীজ' বা শ্বেত দিবসসমূহের সাওম সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করে। পূর্ণিমার চাঁদের আলোয় রাতগুলো উজ্জ্বল থাকে বলে এই বিশেষ নামকরণ করা হয়েছে, যা মহানবী ﷺ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পালন করতেন। নির্ভরযোগ্য হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, প্রতি মাসে এই তিনটি রোজা পালন করা সওয়াবের দিক থেকে সারা বছর রোজা রাখার সমতুল্য হিসেবে বিবেচিত হয়। রাসুলুল্লাহ ﷺ তাঁর সাহাবীদের এই আমলটি নিয়মিত করার জন্য বিশেষ উপদেশ ও নির্দেশ দিয়েছেন। এই নফল ইবাদতটি পালনের মাধ্যমে একজন মুমিন খুব সহজেই তাঁর আমলনামায় বিরাট সওয়াব যোগ করতে এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে পারেন। মূলত এটি মুমিনদের সারা বছর আধ্যাত্মিক পবিত্রতা ও তাকওয়া বজায় রাখার একটি চমৎকার মাধ্যম।

No comments:

Post a Comment

'; (function() { var dsq = document.createElement('script'); dsq.type = 'text/javascript'; dsq.async = true; dsq.src = '//' + disqus_shortname + '.disqus.com/embed.js'; (document.getElementsByTagName('head')[0] || document.getElementsByTagName('body')[0]).appendChild(dsq); })();