
ফেসবুকে ব্যবহারকারীদের প্রদান করা লাইক এবং ডিজিটাল কার্যক্রম কীভাবে মানুষের অবচেতন মনের মানচিত্র তৈরি করে বিশ্ব রাজনীতি ও গণতন্ত্রকে প্রভাবিত করছে, এই নিবন্ধে তা বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। গবেষণার বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে যে, সামান্য কিছু লাইক বিশ্লেষণ করে অ্যালগরিদম একজন ব্যক্তির চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য তার নিকটাত্মীয়দের চেয়েও নিখুঁতভাবে শনাক্ত করতে সক্ষম। কেমব্রিজ অ্যানালিটিকার মতো প্রতিষ্ঠানগুলো এই ডেটা বা তথ্য ব্যবহার করে ভোটারদের মনস্তত্ত্ব নিয়ন্ত্রণ বা মাইক্রো-টার্গেটিংয়ের মাধ্যমে মার্কিন নির্বাচন ও ব্রেক্সিটের মতো বড় ঘটনার ফলাফল বদলে দিয়েছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই অ্যাটেনশন ইকোনমি মানুষের রাগ ও ভয়কে পুঁজি করে সমাজে মেরুকরণ সৃষ্টি করছে এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। বর্তমান যুগে ডেটা বা তথ্যকে একবিংশ শতাব্দীর জ্বালানি হিসেবে অভিহিত করে লেখক ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কঠোর ডেটা সুরক্ষা আইনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। নিবন্ধটি আমাদের সতর্ক করে যে, ইন্টারনেটে আমাদের প্রতিটি ক্ষুদ্র প্রতিক্রিয়া আসলে একটি অদৃশ্য জালে আটকা পড়ার মতো, যা ধীরে ধীরে আমাদের স্বাধীন চিন্তা ও গণতান্ত্রিক অধিকারকে খর্ব করছে।

No comments:
Post a Comment