
আর্জেন্টিনার জায়নবাদ: খেলা ও রাজনীতির রক্তাক্ত সমীকরণ
এই প্রতিবেদনটি আর্জেন্টিনার বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান এবং দেশটির ফুটবল উন্মাদনার মাঝে এক বৈপরীত্য তুলে ধরেছে। আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাবিয়ে মিলেই নিজেকে একজন কট্টর জায়নবাদী হিসেবে ঘোষণা করে ইসরাইলের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন, যা ফিলিস্তিন সংকটের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত বিতর্কিত। অন্যদিকে, বাংলাদেশের অসংখ্য ফুটবল ভক্ত লিওনেল মেসি ও আর্জেন্টিনাকে অন্ধভাবে ভালোবাসলেও দেশটির এই রাজনৈতিক অবস্থান তাদের জন্য এক বড় ধরনের বিবেক ও নৈতিকতার সংকট তৈরি করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, মেসি কেবল একজন খেলোয়াড় নন, বরং তিনি রাষ্ট্রের একজন সাংস্কৃতিক দূত এবং তার নীরবতা পরোক্ষভাবে সরকারি নীতিকেই সমর্থন দিচ্ছে। এর মাধ্যমে খেলাধুলাকে রাজনীতির বাইরে রাখার প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছে এবং ভক্তদের তাদের আবেগের চেয়ে মানবিকতাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। পরিশেষে, এই বিশ্লেষণটি পাঠকদের ভাবিয়ে তোলে যে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সহানুভূতি এবং আর্জেন্টিনার কট্টর ইসরাইল-পন্থী নীতি কি একসাথে চলা সম্ভব কি না।
এই প্রতিবেদনটি মূলত আর্জেন্টিনার বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান এবং ফিলিস্তিন সংকটে তাদের ভূমিকার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের ফুটবল ভক্তদের নৈতিক দ্বান্দ্বিকতা নিয়ে আলোচনা করে। আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই নিজেকে একজন কট্টর জায়নবাদী হিসেবে ঘোষণা করেছেন এবং ইসরায়েলের প্রতি তার নিঃশর্ত সমর্থন ব্যক্ত করেছেন, যা বিশ্বজুড়ে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। অন্যদিকে, লিওনেল মেসি দেশটির সাংস্কৃতিক দূত হওয়া সত্ত্বেও গাজায় চলমান মানবিক বিপর্যয়ে নীরব থাকায় তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, বাংলাদেশের তরুণরা একদিকে ফিলিস্তিনিদের জন্য শোক প্রকাশ করে, আবার অন্যদিকে ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র আর্জেন্টিনার জয়ে উল্লাস করে—যা একটি স্পষ্ট বিবেকের বৈপরীত্য। পরিশেষে, খেলাধুলাকে রাজনীতি থেকে আলাদা রাখার প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করে সমর্থকদের তাদের নৈতিক অবস্থান পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এভাবে ফুটবলীয় উন্মাদনা এবং ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতার এক সংঘাতময় চিত্র এখানে ফুটে উঠেছে।

এই প্রতিবেদনে আর্জেন্টিনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট হাবিয়ের মিলেইয়ের কট্টর ইসরায়েলপন্থী অবস্থান এবং ফিলিস্তিন সংকটে তার ভূমিকার একটি সমালোচনা তুলে ধরা হয়েছে। নিজেকে বিশ্বের অন্যতম বড় জায়নবাদী হিসেবে ঘোষণা করে মিলেই যখন ইসরায়েলকে সমর্থন দিচ্ছেন, তখন বাংলাদেশের আকাশী-সাদা সমর্থকদের নৈতিক দ্বান্দ্বিকতা এখানে ফুটে উঠেছে। লেখক যুক্তি দিয়েছেন যে, লিওনেল মেসি কেবল একজন খেলোয়াড় নন বরং আর্জেন্টিনার সাংস্কৃতিক দূত, তাই তার নীরবতা পরোক্ষভাবে নিজ রাষ্ট্রের নীতিরই প্রতিফলন ঘটায়। গাজায় ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদ করার পাশাপাশি আর্জেন্টিনার ফুটবলে মাতোয়ারা হওয়াকে এখানে চরম ভণ্ডামি হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। মূলত খেলাধুলা ও রাজনীতি যে একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন নয়, সেই রূঢ় বাস্তবতাকে দর্শকদের সামনে তুলে ধরাই এই আলোচনার মূল উদ্দেশ্য। পরিশেষে, ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে পাঠকদের তাদের বিবেক ও আত্মসম্মান জাগ্রত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ঢাকার ধুলমাখা অলিগলি চায়ের দোকান আর ছাদের আলোগুলো তখনো নেভেনি পুরো শহর যেন এক অদৃশ্য জাদু মন্ত্রে জেগে আছে চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে হাজারো তরুণের চোখ স্থির হয়ে আছে টেলিভিশনের বিশাল স্ক্রিনে তাদের গায়ে আকাশী সাদা টোরাকাটা জার্সি বুকে জলজল করছে একটি নাম একটি সংখ্যা মেসি টেন স্ক্রিনে যখন ওই জাদুকর বা পায়ে বল নিয়ে এগিয়ে যায় তখন ঢাকার এই জরাজীর্ণ গলিগুলোতে যেন এক ঐশী উন্মাদনা তৈরি হয় মেসি মেসি চিৎকারে প্রকম্পিত হয় বাংলার আকাশ এই দেশের মানুষ হয়তো নিজেদের দেশের ইতিহাস ভুলে যেতে পারে কিন্তু আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচের পরিসংখ্যান তাদের নখদর্পণে ফুটবল এখানে কেবল খেলা নয় আর লিওনেল মেসি এখানে কেবল একজন খেলোয়াড় নন তিনি এক অলিখিত ধর্ম এক অঘোষিত উপাস্য কিন্তু এই অন্ধ প্রেমের উল্লাসে মত্ত থাকা বাংলাদেশের তরুণরা কি জানে তারা যে আকাশী সাদা জার্সি পড়ে উল্লাস করছে সেই পতাকার ছায়াতলে আজ কি ভয়ঙ্কর এক দানবীয় শক্তির উত্থান ঘটেছে তারা কি জানে যে দেশের জয়ে তারা চোখের জল ফেলে সেই দেশ আজ কাদের কাঁধে হাত রেখে ফিলিস্তিনিদের শিশুদের রক্ত নিয়ে হলি খেলছে দৃশ্যপট বদলানো যাক ঢাকারই চায়ের দোকান থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে আটলান্টিকের উপারে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে এক অভিজাত মিলনায়তন সেখানে কোন ফুটবলের বাসি বাধছে না সেখানে সেখানে চলছে বিশ্ব রাজনীতির এক ভয়ঙ্কর দাবার চাল আর সেই মঞ্চে দাঁড়িয়ে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট অর্থাৎ লিওনেল মেসির দেশের রাষ্ট্রপ্রধান এমন এক ঘোষণা দিচ্ছেন যা শুনলে যেকোন বিবেকবান মানুষের শীর দ্বারা পেয়ে শীতল স্রোত নেমে যাবে শুরু হতে যাচ্ছে এক চরম মনস্তাত্বিক কষাঘাতের গল্প যা প্রতিটি আকাশী সাদা সমর্থকের আত্মসম্মানকে মাটিতে মিশিয়ে দেবে নিউইয়র্কের ইয়রশিভা ইউনিভার্সিটি ইহুদিীবাদী দর্শন এবং পশ্চিমা রক্ষণশীলতার এক অন্যতম প্রধান স্নায়ুকেন্দ্র এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আলো ঝলমলে মঞ্চে আজ যিনি দাঁড়িয়ে আছেন তার উস্কখুষ্ক চুল আর বন্যচোখের দৃষ্টি তাকে আর 10 জন রাষ্ট্রনেতা থেকে আলাদা করে রেখেছে তিনি হাবিয়ে মিলেই নিজেকে অনার্কো ক্যাপিটালিস্ট বা কচ্চর নৈরাজ্যবাদী পুঁজিবাদী হিসেবে পরিচয় দেওয়া আর্জেন্টিনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট তার সামনে বসে আছেন বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ইহুদি নেতা রাব্বি এবং ধনকুবেররা হাবিয়ে মিলেই যখন মাইক্রোফোনের সামনে দাঁড়ালেন তখন পুরো হলরুমে পিনপতন নীরবতা তিনি গলা খাকারি দিয়ে যা বললেন তা আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে এক বিশাল বোমার মতো ফাটল আমি গর্ববোধ করি মিলাইয়ের কণ্ঠস্বর ছিল তীক্ষ্ণ এবং দাম্ভি ইসরাইল ও ইহুদি জনগণের প্রতি আমার সমর্থন আগের মতোই অটুট রয়েছে এই অবস্থান থেকে আমি কোনভাবেই সরে আসবো না আর আজ আমি নিজেকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় জায়নবাদী রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে ঘোষণা করছি দর্শকদের গগন বিদারী করতালিতে ফেটে পড়লো পুরো মিলনায়তন আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রপ্রধান যে দেশটিকে বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষ অন্ধের মত ভালোবাসে সেই দেশের সর্বোচ্চ নেতা আজ নিজেকে সবচেয়ে বড় ইহুদিীবাদী হিসেবে গর্বভরে ঘোষণা করছেন যে মুহূর্তে ফিলিস্তিনের হাজার হাজার ফিলিস্তিনি শিশু নারী ও বৃদ্ধকে ইসরাইলি বাহিনী নিরমভাবে হত্যা করছে যে মুহূর্তে পুরো বিশ্ব ইসরাইলের এই বর্বরতার বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছে ঠিক সেই মুহূর্তে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট তেলাপিবের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের পিঠ চাপড়ে দিচ্ছেন তিনি শুধু সমর্থন দিয়েই থামেননি তিনি এই সমর্থনকে এক ধর্মীয় উন্মাদনার পর্যায়ে নিয়ে গেছেন হাবিয়ে মিলেই শুধু নিজেকে জায়ানবাদী বলেই থামেননি তিনি এর পেছনে এক গভীর ধর্মীয় ও দার্শনিক ব্যাখ্যাও দাঁড় করিয়েছেন যা শুনলে তার অন্ধ আনুগত্যের মাত্রা পরিষ্কার বোঝা যায় তিনি দাবি করেন পশ্চিমা সভ্যতার পুরো ভিত্তিটাই গড়ে উঠেছে ইহুদিদের ধর্মগ্রন্থ তাওরাত এবং বাইবেলের 10টি আদেশের উপর তার মতে জীবন স্বাধীনতা এবং ব্যক্তিগত সম্পত্তির মত আধুনিক বিশ্বের যত মৌলিক অধিকার রয়েছে তার সবই এসেছে ওই ইহুদিবাদী দর্শন থেকে তার কথা এক ধরনের হিপনোটিক বা সম্মোহনী সুর ছিল তিনি বাইবেলের এক্সোডাস বা মিশর থেকে ইসরাইলিদের বেরিয়ে আসার ঘটনার কথা উল্লেখ করেন তিনি বলেন ইসরাইলিদের ওই যাত্রাতেই স্বাধীনতার মূল ধারণা লুকিয়ে আছে এই ধর্মীয় মূল্যবোধগুলোই পশ্চিমা সভ্যতার বিকাশের ভিত্তি তৈরি করেছে তাই ইসরাইলের সাথে কোন ধরনের আপোষ করার প্রশ্নই ওঠে না মিলে এর কথার অর্থ এর কথার অর্থ হলো ফিলিস্তিনের মাটিতে যা কিছুই ঘটুক না কেন যত রক্তই ঝরুক না কেন আর্জেন্টিনা সবসময় ইসরাইলের পক্ষে থাকবে কারণ তারা এটিকে নিছক কোন রাজনৈতিক বিষয় হিসেবে দেখছে না তারা এটিকে একটি পবিত্র যুদ্ধ বা হোলি ওয়ার হিসেবে নিয়েছে কট্টর উদারতাবাদী চিন্তাবিদ হান্স হারমেন হোপে যখন মিলেইয়ের এই উগ্র ইসরাইল পন্থী অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন তখন মিলেই তাকে স্টেপ তাছিল ভরে উড়িয়ে দেন তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন ইসরাইলের প্রতি সমর্থন জানাতে তিনি গর্ববোধ করেন এবং কোন সমালোচনায় তাকে টলাতে পারবে না তিনি নিয়মিত ইহুদি ধর্মের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ করেন এবং রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে তাদের কাছ থেকে দিক নির্দেশনা নেন এক কথায় আর্জেন্টিনা আজ পরিণত হয়েছে ইসরাইলের এক বিশ্বস্ত দাসে এখন প্রশ্ন হলো এই ভূরাজনৈতিক নোংরা খেলার সাথে লিওনেল মেসির কি সম্পর্ক কেন বাংলাদেশের আকাশী সাদা ফ্যানদের এই গল্প পড়ে লজ্জিত হওয়া উচিত সম্পর্কটা এখানেই যে মেসি কেবল একজন খেলোয়াড় নন তিনি হলেন আর্জেন্টিনার অফিশিয়াল কালচারাল অ্যাম্বাসেডর বা সাংস্কৃতিক দূত যখন হাবিয়ে মিলেই নিজেকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় জায়নবাদী হিসেবে ঘোষণা করছেন তখন লিওনেল মেসি এই রাষ্ট্রেরই প্রতিনিধিত্ব করছেন বাংলাদেশের যে তরুণেরা শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর গাজার মজলুম মুসলমানদের জন্য চোখের জল ফেলে ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে নিয়ে ইসরাইলের বিরুদ্ধে স্লোগান দেয় তারাই আবার শুক্রবার রাতে মেসির জয়ে আনন্দে মিষ্টি বিলায় এর চেয়ে বড় হিপোক্রেসি বা ভন্ডামি আর কি হতে পারে একটু ইতিহাসের পাতা উল্টানো যাক লিওনেল মেসির সাথে ইসরাইলের সম্পর্ক আজকের নয় 2018 সালে জেরুজালেমে আর্জেন্টিনা এবং ইসরাইলের মধ্যে একটি প্রীতি ম্যাচ হওয়ার কথা ছিল সে সময় ফিলিস্তিনিদের তীব্র প্রতিবাদে ম্যাচটি বাতিল হয় কিন্তু মেসি বা আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের ইসরাইল প্রীতি তাতে একটুও কমেনি মেসি যখন ইসরাইলে যান তখন তিনি হাসিমুখে ইহুদিদের পবিত্র দেয়াল ওয়েল্ডিং ওয়ালে গিয়ে মাথায় কিপা ইহুদিদের ঐতিহ্যবাহী টুপি পড়ে প্রার্থনা করেন তার সেই ছবি সারা বিশ্বের ইসরাইলি মিডিয়া গর্বভরে প্রচার করে ইসরাইলের ধনকুবের এবং স্পন্সরদের সাথে মেসির বিলিয়ন ডলারের ব্যবসায়িক সম্পর্ক যে ইসরাইলি স্টার্টআপ গুলো ফিলিস্তিনিদের উপর নজরদারী করার প্রযুক্তি বানায় তাদের অনেকের সাথেই পরোক্ষভাবে জড়িয়ে আছে পশ্চিমা কর্পোরেট বিশ্ব যাদের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর স্বয়ং লিওনেল মেসি আর গাজার শিশুরা যখন বোমার আঘাতে ছিন্নভিন্ন হয়ে যাচ্ছে তখন এই ফুটবল দেবতার মুখ থেকে কি একটি শব্দও বের হয়েছে ফিলিস্তিনের পক্ষে কি একটি সহানুভূতিমূলক পোস্ট তিনি দিয়েছেন না তিনি চুপ কারণ তিনি জানেন তার দেশের প্রেসিডেন্ট হাবিয়ে মিলেই ইসরাইলের সবচেয়ে বড় বন্ধু তিনি জানেন তিনি নীরব থেকে মূলত ইসরাইলের এই বর্বরতাকেই সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন আর আমরা বাংলাদেশের বোকা ফ্যানরা সেই নীরব বিশ্বাসঘাতকের ছবি বুকে ধারণ করে রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছি বাংলাদেশের প্রতিটি আর্জেন্টিনা সমর্থকের আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেদের প্রশ্ন করা উচিত আমরা আসলে কাদের সমর্থন করছি আপনি যখন বাজার থেকে হাজার টাকা দিয়ে একটি আর্জেন্টিনার অফিশিয়াল জার্সি কিনেন আপনি যখন তাদের স্পন্সর করা পণ্যগুলো কেনেন তখন সেই অর্থের একটি অংশ আর্জেন্টিনার অর্থনীতিতে যুক্ত হয় আর সেই অর্থনীতি আজ পরিচালিত হচ্ছে এমন এক প্রেসিডেন্টের দ্বারা যিনি নিজেকে গর্ব ভরে সবচেয়ে বড় ইহুদিীবাদী বলে দাবি করেন ভাবতে পারেন আপনি এমন একটি দেশের পতাকা আপনার বাড়ির ছাদে উড়াচ্ছেন যে দেশ প্রকাশের ঘোষণা দিয়ে ইসরাইলের পক্ষে দাঁড়িয়েছে যে ইসরাইল প্রতিদিন আপনার ফিলিস্তিনি ভাই-বোনদের রক্ত পান করছে আপনি সেই ইসরাইলের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশের জাতীয় দলের জয়ে উল্লাস করছেন আমাদের আবেগ কতটা অন্ধ হলে আমরা এই সহজ সমীকরণটা বুঝতে পারি না আমরা বলি খেলাকে রাজনীতির সাথে মেশাবেন না কিন্তু মিলেই কি খেলাকে রাজনীতির বাইরে রেখেছেন তিনি তো আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবেই এই ঘোষণা দিয়েছেন যখন পুরো আর্জেন্টিনা ইসরাইলের পাশে দাঁড়িয়েছে তখন আপনি কিভাবে আকাশী সাদা জার্সিকে শুধু খেলা বলে চালিয়ে দেবেন এই দ্বিচারিতা এই মেরুদণ্ডহীনতা আমাদের পুরো জাতিকে বিশ্বের সামনে এক হাস্যকর বস্তুতে পরিণত করেছে ফিলিস্তিনেরা যখন দেখে যে বাংলাদেশের মানুষ তাদের জন্য কাঁদছে আবার পরক্ষণে ইসরাইলের সবচেয়ে বড় মিত্র দেশ আর্জেন্টিনার জয়ের রাস্তায় নেমে নাচানাচি করছে তখন তারা আমাদের এই সস্তা আবেগ নিয়ে কি ভাবে মেসি হয়তো অনেক বড় ফুটবলার তার বায়ের জাদু হয়তো মোহনীয় কিন্তু একজন মানুষের একটি দেশের নীতি ও মানবতার বিরুদ্ধে যখন দাঁড়ায় তখন সেই জাদুকে বর্জন করার মত সাহস কি আমাদের নেই নাকি আমাদের বিবেক ওই ফুটবলার জার্সির কাছে চিরকালের জন্য বন্ধক রাখা হয়ে গেছে আর যদি আপনি একজন সত্যনিষ্ঠ মানুষ হন তবে আপনার বুকে ওই আকাশী সাদা জার্সিটা একটা জ্বলন্ত কয়লার মতো বিধতে বাধ্য ভাবুন সেই দৃশ্যটার কথা ফিলিস্তিনের কোন এক ধুলিসাৎ হওয়া হাসপাতালের নিচে চাপা পড়ে আছে একটি পাঁচ বছরের শিশু তার শরীরের রক্ত চোখে আতঙ্ক তার মাথার উপর দিয়ে উড়ে যাচ্ছে ইসরাইলি ড্রোন আর ঠিক সেই মুহূর্তে আটলান্টিকের ওপারে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাবিয়ে মিলেই ইহুদি রাব্বীদের সাথে শ্যাম্পেইনের গ্লাস হাতে নিয়ে ইসরাইলের বিজয় কামনা করছেন আর সেই একই সময়ে আপনি ঢাকা রাস্তায় দাঁড়িয়ে আর্জেন্টিনার জয়ে আতশবাজি ফোটাচ্ছেন এই দৃশ্যপট কি আপনার বিবেক কি একটুও দংশন করে না আপনার কি একবারও মনে হয় না যে আপনি আসলে ওই ফিলিস্তিনি শিশুটির হত্যাকারীদেরই পরোক্ষভাবে উদযাপন করছেন আর্জেন্টিনা প্রেসিডেন্ট যখন বলছেন পশ্চাত্য সভ্যতার ভিত্তি হলো ইহুদি আদেশ তখন তিনি মূলত ফিলিস্তিনিদের অস্তিত্বকেই অস্বীকার করছেন তিনি স্বীকার করে নিচ্ছেন যে ইসরাইলের যে কোন কর্মকাণ্ড তা যত বর্বরই হোক না কেন তা বৈধ আর লিওনেল মেসি সেই দেশের জাতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবে এই নগ্ন রাজনীতির এক অবিচ্ছেদ্দ্য অংশে পরিণত হয়েছেন বাংলাদেশের ফ্যান্ডা মেসিকে ঈশ্বর বানিয়েছে আর সেই ঈশ্বর আজ এমন এক বেদিতে দাঁড়িয়ে আছেন যার প্রতিটি ইটে লেগে আছে ফিলিস্তিনিদের রক্ত এই সত্যটা হজম করা হয়তো কঠিন কিন্তু এটাই চরম বাস্তবতা রাত এখন ভোর হওয়ার পথে ঢাকার সেই চায়ের দোকানের টিভিটা এখনো চলছে কিন্তু এবার আর সেখানে ফুটবলের কোন ম্যাচ দেখানো হচ্ছে না আন্তর্জাতিক সংবাদের চ্যানেলে দেখাচ্ছে নিউইয়র্কের সেই ইয়েশিবা ইউনিভার্সিটির দৃশ্য হাবিয়ে মিলেই হাসি মুখে নেতা নিয়াহুর এক ঘনিষ্ঠ দূতের সাথে করমর্দন করছেন নিচে ব্রেকিং নিউজের স্ক্রলে লেখা নিজেকে সবচেয়ে বড় জায়নবাদী হিসেবে ঘোষণা করলেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট চায়ের দোকানে বসে থাকা এক তরুণ যার গায়ে 10 নম্বর জার্সি সে হঠাৎ করেই যেন জমে গেল তার হাতের চায়ের কাপটা কাঁপছে টিভিতে দৃশ্যপট বদলে গেল এবার দেখানো হচ্ছে গাঁজার একটি বিধ্বস্ত স্কুল লাশের শাড়ি রক্ত তরুণটি তার নিজের বুকের দিকে তাকালো আকাশী সাদা জার্সির উপর লেখা মেসি তারপর হঠাৎ মনে হলো এই জার্সি রঙ আর আকাশী সাদা নেই এটা যেন লাল হয়ে গেছে ফিলিস্তিনের শিশুদের রক্তে ভিজে চবজবি হয়ে গেছে তার এই প্রিয় জার্সিটি সে বুঝতে পারল সে এতকাল যাকে ভালোবেসেছে সে আসলে এমন এক রাষ্ট্রের প্রতিনিধি যারা এই গণহত্যার সবচেয়ে বড় সমর্থক সে ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ালো তার গায়ে যেন কেউ গরম সীসা ঢেলে দিয়েছে সে তার গায়ের জার্সিটা খুলল ধুলামাখা রাস্তায় ছুড়ে ফেলল সেই পরম আরাধ্য বস্তুটিকে বিশ্ব রাজনীতির দাবার বোর্ডে আজ আর কোন কিছুই আলাদা নয় খেলা রাজনীতি ধর্ম রক্ত সবকিছু আজ মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে পরাশক্তিগুলো যখন তাদের নগ্ন রূপ নিয়ে বেরিয়ে আসে তখন এই সস্তা আবেগগুলোর কোন মূল্য থাকে না আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট তার চাল দিয়ে দিয়েছেন তিনি ইসরাইলের পাশে দাঁড়িয়ে এক নতুন ভূরাজনৈতিক স্নায়ু যুদ্ধে ডাক দিয়েছেন আর লিওনেল মেসি তার নীরবতার মাধ্যমে সেই ডাকে সাই দিয়েছেন এখন বাংলাদেশের ফ্যানদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পালা তারা কি নিজেদের আত্মসম্মান বিবেক এবং ফিলিস্তিনি ভাইদের রক্তের সাথে বেইমানী করে এই আকাশী সাদা পতাকাকেই আঁকড়ে ধরে থাকবে নাকি এই লজ্জার চাদর ছুড়ে ফেলে দিয়ে মানবতার পক্ষে দাঁড়াবে

No comments:
Post a Comment